ছবি: চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর এলাকায় পুলিশের অভিযান।
মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৫
ক্রাইম ডেস্ক | GenZ Frontier | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
চট্টগ্রাম — চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাকলিয়া থানার সৈয়দ শাহ রোডের মোরশেদ টাওয়ারের সামনে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় 'মুরাদ বাহিনী'র প্রধান মুরাদ এবং জসিমের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই আধিপত্য বিস্তারের জেরে রোববার রাতে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে তারা পরস্পরের দিকে বেপরোয়াভাবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে এবং পুরো এলাকায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এ সময় রাস্তায় চলাচলরত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হামলাকারীরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার কাচ ভাঙচুর করে।
পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও গ্রেপ্তার
সংঘর্ষ ও নাশকতার খবর পেয়ে বাকলিয়া থানার টহল পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে পুলিশ ওই এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষে সরাসরি জড়িত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
"আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। তারা জনসাধারণের জানমালের ক্ষতি ও নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। সিএনজি অটোরিকশার গ্লাস ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় সরাসরি জড়িত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
গোলাগুলির গুঞ্জন নাকচ করল পুলিশ
সংঘর্ষের সময় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা গোলাগুলির বিকট শব্দ শোনার দাবি করলেও, পুলিশ তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে ওসি শাহীনুর আলম পরিস্থিতি স্পষ্ট করে বলেন, “সেখানে কোনো ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। মূলত এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে ফটকা ফোটানো হয়েছে এবং টিনের ঘরে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছে, যার কারণে এমন বিকট শব্দের সৃষ্টি হয়।”
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
#ChattogramCrime #Bakalia #BangladeshPolice #DrugCartelClash #GenZFrontierNews