
সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ জুন ২০২৬
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাস থেকে দেশব্যাপী পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এক বছরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং দেশের সব সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংসদ অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সম্ভাব্য নির্বাচনী রোডম্যাপ তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও গণমুখী করতে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
এক বছরের মধ্যে সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্য
মন্ত্রী জানান, সরকারের বাজেট প্রাপ্যতা ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়।
বগুড়া সিটিসহ ১৩ সিটি করপোরেশনেও ভোট
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের মোট ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও আগামী এক বছরের মধ্যেই আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনে জনগণের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে।
উপজেলায় নির্মাণ হবে পরিদর্শন কক্ষ
সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি উপজেলায় সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি করে আধুনিক পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি উপজেলার অনুকূলে ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকি এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় পানির চাহিদা ও সরবরাহের চিত্র
ঢাকা মহানগরীর পানির চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৩২০ থেকে ৩২৫ কোটি লিটার। এর বিপরীতে ঢাকা ওয়াসার উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ২৯৫ থেকে ৩০০ কোটি লিটার।
তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করে ওয়াসা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি পরিশোধন করছে। প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০ থেকে ৫০টি নমুনা সংগ্রহ করে পানির মান পরীক্ষা করা হয়, যাতে নাগরিকরা নিরাপদ পানি পেতে পারেন।
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে আসছে নতুন সফটওয়্যার
জনসেবা আরও সহজ ও আধুনিক করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থায় ‘ভার্সন ২’ সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। নতুন এই প্ল্যাটফর্মে অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা যুক্ত করা হবে, ফলে নাগরিকদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য অপসারণের জন্য ছোট কাভার্ড ভ্যান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
যুবসমাজকে আসক্তি থেকে দূরে রাখতে উদ্যোগ
সংসদে আলোচনার সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির বিষয়ও তুলে ধরা হয়। যুবসমাজকে মাদক ও অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ক্রীড়া কার্যক্রম এবং সামাজিক সচেতনতা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
সরকারের এসব উদ্যোগ দেশের স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সেবা ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
Tag: মির্জা ফখরুল আলমগীর , বিন এন পি , সরকার







