ছবি সূত্র: অনলাইন
জামায়াতপন্থি ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের পদত্যাগ ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’: ব্যারিস্টার বাদল
পলিটিক্যাল ও ল ডেস্ক | GenZ Frontier | ২৪ জুন ২০২৬ সুপ্রিম কোর্টে জামায়াত সমর্থিত ৭ ডেপুটি ও ১১ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।
বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স কোর্টের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, সবসময় অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সরকারি অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পোস্টগুলোতে যখনই সরকার পরিবর্তন হয়, তখনই এই আইন কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে যান। এটাই নিয়ম।
তিনি বলেন, এটাও দেখেছি (অতীতে), সরকার গঠনের আগে ও নির্বাচন হওয়ার পরেই যখন দেখেছে যে, অন্য দল ক্ষমতায় এসেছে, তখন সরকারদলীয় যারা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের কর্মকর্তা ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলসহ তারা পদত্যাগ করেছেন।
ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, আমাদের যে বন্ধুরা গতকাল পদত্যাগ করেছে, উনারা এই সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে চার মাস কাজ করেছেন। বেতন নিয়েছেন, সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন। পরে গতকাল উনাদের মনে হলো, এখন আসলে পদত্যাগ করা দরকার অথবা রিমুভ হবেন, এ জন্য উনারা রাজনৈতিক কিছু বিষয় নিয়ে এসেছে যেটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। উনাদের এই বক্তব্যটা পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত, যেটা আমরা প্রত্যাশা করিনি তাদের কাছ থেকে।
তিনি আরও বলেন, এখন আমি অ্যাটর্নি জেনারেলকে আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে বলতে চাই, এই চার মাস যে উনারা কাজ করলেন, তারা সরকারের পক্ষে কাজ করেছে? নাকি সরকারের বিপক্ষে স্যাবোটাজ করেছে? এই চার মাসের যতগুলো ফাইল ছিল, সবগুলো ফাইল যেন উনারা একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখেন। কারণ সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা সুযোগ-সুবিধা সব নিয়ে পদত্যাগ করে আবার সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে সরকারের স্বার্থরক্ষার জন্য কাজ করেছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি। কাজেই সরকারের বিরুদ্ধে মনে হয় কাজ করেছে, এ জন্য রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তারা এনেছেন; যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৩ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।
পদত্যাগকারী সাত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন– ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম।
১১ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন– ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির, রেজাউল ইসলাম ও জাকির হোসেন।
সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী জামায়াত ইসলামীর সমর্থিত ৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের একযোগে পদত্যাগের ঘটনাকে নিছক 'রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি' (Political Stunt) বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।
বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স কোর্টের সামনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, পদচ্যুতির আশঙ্কা থেকেই তারা রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করে পদত্যাগের এই নাটক সাজিয়েছেন।
পদত্যাগের প্রথা বনাম 'স্ট্যান্টবাজি'
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের দীর্ঘদিনের প্রথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণত সরকার পরিবর্তন হলে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সরকারি আইন কর্মকর্তারা (ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ইত্যাদি) স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। এটিই একটি অলিখিত নিয়ম। অতীতেও দেখা গেছে, নির্বাচন বা গণঅভ্যুত্থানের পর যখনই নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আগের সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পদত্যাগ করে চলে গেছেন।
তবে সদ্য পদত্যাগকারী ১৮ জন কর্মকর্তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "আমাদের যে বন্ধুরা গতকাল পদত্যাগ করেছেন, উনারা এই সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে গত চার মাস ধরে কাজ করেছেন। এই চার মাস তারা বেতন নিয়েছেন, সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন এবং পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু গতকাল হঠাৎ উনাদের মনে হলো পদত্যাগ করা দরকার। সম্ভবত তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে তাদের রিমুভ (অব্যাহতি) করা হতে পারে। এ জন্যই উনারা রাজনৈতিক কিছু বিষয় সামনে নিয়ে এসেছেন, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।"
তিনি আরও যোগ করেন, "উনাদের এই বক্তব্যটা পুরোপুরি পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি। এটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত একটি সিদ্ধান্ত, যা আমরা অন্তত আইনাঙ্গনের মানুষের কাছ থেকে প্রত্যাশা করিনি।"
সরকারের ফাইল নিয়ে 'স্যাবোটাজ'-এর সন্দেহ
পদত্যাগকারী আইন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের বা সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন, নাকি কোনো গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন—তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেন বিএনপির এই প্রভাবশালী আইনজীবী নেতা।
তিনি বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে আমি অ্যাটর্নি জেনারেলকে অনুরোধ করতে চাই, এই চার মাস উনারা যে কাজ করলেন, তারা কি আসলেই সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন? নাকি সরকারের বিপক্ষে স্যাবোটাজ (অন্তর্ঘাত) করেছেন? এই চার মাসে উনাদের হাতে যতগুলো ফাইল ছিল, সবগুলো যেন অ্যাটর্নি জেনারেল ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে দেখেন।"
ব্যারিস্টার বাদলের মতে, সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পদত্যাগের পর সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়াটা সন্দেহজনক। তিনি বলেন, "অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে সরকারের স্বার্থরক্ষার জন্য তারা যথাযথ কাজ করেছেন বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি। উল্টো সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্যই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে তারা এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"
পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের তালিকা
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের এই ১৮ জন আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারী ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন: * অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী * অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান * অ্যাডভোকেট আবদুল করিম * অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান * অ্যাডভোকেট গোলাম রহমান ভূঁইয়া * অ্যাডভোকেট আসাদ উদ্দিন * অ্যাডভোকেট মুহম্মদ তারিকুল ইসলাম
পদত্যাগকারী ১১ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন: * ইমরুল কায়েছ রানা * হুমায়ুন কবির তানিম * আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া * আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম * জোয়াদুর রহমান * শামসিল আরেফিন * মাহাবুবা আক্তার রলি * নূর নবী উজ্জ্বল * আল রেজা আমির * রেজাউল ইসলাম * মো: জাকির হোসেন
Frequently Asked Questions (FAQ)
১. পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী বলে দাবি করা হচ্ছে? বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদলের বক্তব্য অনুযায়ী, পদত্যাগকারী ৭ জন ডেপুটি ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মূলত জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।
২. ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল এই পদত্যাগকে কেন 'রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি' বলেছেন? তার মতে, এই কর্মকর্তারা বর্তমান সরকারের অধীনে চার মাস ধরে বেতন ও সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন পদচ্যুতির আশঙ্কায় তারা আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করে একে একটি রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
৩. ফাইল পর্যালোচনার দাবি কেন তোলা হয়েছে? ব্যারিস্টার বাদল সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, এই কর্মকর্তারা গত চার মাসে সরকারের পক্ষে কাজ না করে ফাইলের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে 'স্যাবোটাজ' বা অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করে থাকতে পারেন। তাই তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে এসব ফাইল পুনরায় চেক করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে একযোগে পদত্যাগ করলেন ৭ ডেপুটি ও ১১ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল
#SupremeCourtBD #AttorneyGeneral #BNP #Jamaat #BangladeshPolitics #LawAndJustice #GenZFrontierNews