← Back

GenZ Frontier News Header

‘ভুল মানুষের সঙ্গে বিয়ে হলে কেউই সুখী হবে না’— ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে অকপট মেধা শংকর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ জুন ২০২৬

"সমাজের চাপে পড়ে বিয়ে করাটা বোকামি। সঠিক মানুষ না পেলে সেই বিয়ে কখনোই সুখের হয় না।" —সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিয়ে এবং দাম্পত্য জীবন নিয়ে এভাবেই অকপটে নিজের দর্শন তুলে ধরেছেন ‘টুয়েলভথ ফেল’ খ্যাত অভিনেত্রী মেধা শংকর। তাঁর নতুন সিনেমা ‘গিন্নি ওয়েডস সানি ২’ সদ্যই মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটির মূল উপজীব্য যেহেতু বিয়ে এবং বিবাহিত জীবনের নানা টানাপোড়েন, তাই অবধারিতভাবেই গণমাধ্যমের কাছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় মেধাকে। আর সেখানেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় নিজের শক্ত অবস্থানের কথা জানান।

ছকভাঙা চিন্তা: বিয়ে নিয়ে মেধার নিজস্ব দর্শন

মেধা শংকর মনে করেন, বিয়ে কোনো সামাজিক বাধ্যবাধকতা বা রুটিন কাজ নয় যে বয়স হলেই করে ফেলতে হবে। একজন মানুষ যখন মানসিকভাবে বিয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবেন এবং জীবনের জন্য একজন সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পাবেন, কেবল তখনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

পরিবার থেকে কখনোই বিয়ের জন্য কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হয়নি জানিয়ে মেধা বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র আত্মীয়স্বজন বা সমাজের চাপে পড়ে কারও বিয়ে করা উচিত নয়। কারণ, দিনশেষে ভুল মানুষের সঙ্গে বিয়ে হলে সেখানে কেউই সুখী হতে পারে না।"

‘জাতীয় ক্রাশ’ তকমা ও সফলতার পেছনের অন্ধকার দিনগুলো

বিধু বিনোদ চোপড়ার 'টুয়েলভথ ফেল' সিনেমাটি মেধার জীবন রাতারাতি বদলে দেয়। এই একটি সিনেমা তাঁকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা এবং 'জাতীয় ক্রাশ'-এর খেতাব। তবে মেধা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানান, এই তকমার পেছনে তাঁর নিজের কোনো অবদান নেই। এটি সম্পূর্ণই দর্শকদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।

তবে আজকের এই মেধা শংকর হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটা মোটেও সহজ বা মসৃণ ছিল না। দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং অডিশনে বারবার বাদ পড়ার মতো তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। মহামারির সময়গুলোতে মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন মেয়ে হিসেবে তীব্র অর্থনৈতিক টানাপোড়েন তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল। মেধার বাস্তবসম্মত উপলব্ধি, "আপনি সফল না হওয়া পর্যন্ত কেউ আপনার যোগ্যতার ওপর বিশ্বাস রাখবে না। 'টুয়েলভথ ফেল'-এর আগেও আমার ভেতরে অভিনয় প্রতিভা ছিল, কিন্তু তখন সেটা কেউ বিশ্বাস করতে চায়নি।"

Medha Shankr

আইআইটি পড়ুয়া বাবার দৃষ্টিভঙ্গি বদলের গল্প

মেধার পারিবারিক পটভূমি বিনোদন জগৎ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর পরিবারের সবাই প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমনস্ক; এমনকি তাঁর বাবা স্বনামধন্য আইআইটি (IIT) থেকে পড়াশোনা করেছেন। এমন একটি শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে মেধার কমার্স নিয়ে পড়া এবং পরবর্তীতে অভিনয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত শুরুতে মেনে নিতে পারেননি তাঁর বাবা।

একসময় তাঁর বাবার বদ্ধমূল ধারণা ছিল, পড়াশোনায় যারা দুর্বল বা কিছুই করতে পারে না, তারাই কেবল অভিনয়ে আসে। কিন্তু মেধার অদম্য জেদ আর একাগ্রতা দেখে সেই দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। শুরুর দিকে মা ও ভাই মেধার পাশে দাঁড়ালেও, পরবর্তীতে তাঁর বাবাই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম। এমনকি অডিশনের দিনগুলোতেও বাবা তাঁর ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকতেন।

প্রত্যাখ্যান ও সমালোচনা নিয়ে ইতিবাচক মানসিকতা

সমাজে এখনো ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারদের পেশাকেই সবচেয়ে বেশি সম্মানের চোখে দেখা হয়। কিন্তু মেধা মনে করেন, কাজ ছোট হোক বা বড়—সেটা অভিনয়, গান কিংবা স্টেশনে বাদ্যযন্ত্র বাজানোই হোক না কেন, প্রতিটি পেশারই নিজস্ব সম্মান রয়েছে।

ক্যারিয়ারের শুরুতে পাওয়া অগণিত প্রত্যাখ্যানকে তিনি কখনোই ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে নেননি। তিনি বিশ্বাস করেন, যারা আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে না, তাদের নেতিবাচক মন্তব্য শুনে নিজের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করার কোনো মানে নেই। তাঁর সোজা কথা, "চারজন মানুষ হয়তো আপনার সম্পর্কে খারাপ কথা বলবে, কিন্তু এর বিপরীতে আরও চারজন মানুষ আপনাকে ভালোবাসবে। আমাদের উচিত খারাপ কথার দিকে কান না দিয়ে ওই ভালোবাসার মানুষদের প্রতিই বেশি গুরুত্ব দেওয়া।" মেধার এই ইতিবাচক জীবনদর্শনই তাঁকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন যা হওয়ার তা এমনিতেই হবে, তাই সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত হিসাব-নিকাশ না করে তিনি এখন নিজের কাজকেই সবচেয়ে বেশি উপভোগ করছেন।