সীমান্ত হত্যা বন্ধে বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে: সারজিস আলম
ন্যাশনাল ডেস্ক | GenZ Frontier | ২৬ জুন ২০২৬
সীমান্তে অব্যাহত হত্যা বন্ধ করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে রুখে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রবিবাজারে স্থানীয় জনসাধারণ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে এনসিপির শীর্ষ নেতারা কুলাউড়া সফর করেন।
নিহত মুজিব আলীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা
এর আগে, শুক্রবার সকালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি নাগরিক মো. মুজিব আলীর কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রামের বাড়িতে যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।
নেতৃবৃন্দ নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় তারা নিহত মুজিব আলীর কবর জিয়ারত করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
বিএসএফ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এনসিপি নেতার ক্ষোভ
রবিবাজারের মতবিনিময় সভায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বিএসএফকে একটি ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করছে।
প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন:
"নিহত মুজিব আলী কেবল মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, আর সেখানেই বিএসএফ তাকে হত্যা করে। অথচ আমাদের স্থানীয় প্রশাসন তাকে 'চোরাকারবারি' বানিয়ে দিল! এর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একমত পোষণ করে প্রকারান্তরে বিএসএফের এই নির্মম হত্যাকে বৈধতা দিচ্ছে। আমরা ক্ষমতায় গেলে দেশের সীমান্তকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করবো এবং বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলবো।"
১২ জুনের সীমান্ত হত্যার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান মো. মুজিব আলী। তিনি কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রামের বাসিন্দা মো. অজিব আলীর ছেলে। সে সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে ভারতের অভ্যন্তরে তার মৃত্যু হয়। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি পেশাগত কারণে বা দৈনন্দিন কাজে সীমান্তের কাছাকাছি গিয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এনসিপি নেতাদের আজকের এই সফর ও বক্তব্য সেই ক্ষোভেরই রাজনৈতিক প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Frequently Asked Questions (FAQ)
১. সারজিস আলম কোথায় মতবিনিময় সভা করেন? জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম শুক্রবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রবিবাজারে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় সভা করেন।
২. বিএসএফের গুলিতে নিহত ব্যক্তির নাম কী এবং তিনি কোথাকার বাসিন্দা? নিহত ব্যক্তির নাম মো. মুজিব আলী। তিনি কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রামের মো. অজিব আলীর ছেলে। গত ১২ জুন তিনি বিএসএফের গুলিতে নিহত হন।
৩. এনসিপি নেতা নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী প্রশাসনের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করেছেন? তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নিহত মুজিব আলী মাছ ধরতে গেলে বিএসএফ তাকে হত্যা করে, কিন্তু প্রশাসন তাকে 'চোরাকারবারি' সাজিয়ে বিএসএফের এই হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
৪. এনসিপির পক্ষ থেকে কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে? দলের মুখ্য সমন্বয়ক জানিয়েছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত করবেন এবং সীমান্ত রক্ষায় বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করবেন।
#BorderKilling #BSF #BGB #SarjisAlam #NationalCitizenParty #Kulaura #GenZFrontierNews #BangladeshNews