বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক: ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদনের তাগিদ দুবাইয়ের
ডিজিটাল রিপোর্ট | GenZ Frontier | ১৫ জুন ২০২৬
দুবাই ট্রানজিটে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, দুদকের মামলার ভিত্তিতেই ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল এবং সেই সূত্র ধরেই বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই নথিপত্র প্রস্তুত করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাবে অনুরোধ চিঠি
মো. আকতারুল ইসলাম আজ সাংবাদিকদের বলেন,
"ইতোমধ্যেই বেনজীর আহমেদকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারকে আসামিকে হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ চিঠি পাঠানো হবে। এই চিঠিটি কূটনৈতিক চ্যানেল তথা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানো হবে।"
দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে থাকা শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলার চার্জশিট ও আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সার্টিফাইড কপি এই অনুরোধ চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে।
৩০ দিনের ডেডলাইন দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
এর আগে গত ১২ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে থাকা অবস্থায় দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে একটি বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। আরব আমিরাত স্পষ্ট জানিয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অনুসারে তাকে সাময়িক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন বাংলাদেশকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রসহ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন (Extradition Request) সম্পন্ন করতে হবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নথিপত্র পাঠাতে ব্যর্থ হলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
বিচারের মুখোমুখি করার জোর প্রস্তুতি
২০২৪ সালের মে মাসে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ২ বছর পর আন্তর্জাতিক ট্রানজিট পয়েন্টে বেনজীর আহমেদের এই আটকের ঘটনাকে বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আইনবিদরা।
দুদকের আইন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেহেতু বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ২০১৪ সালেই সাজাপ্রাপ্ত বন্দি বিনিময় ও পারস্পরিক আইনি সহায়তার চুক্তি সই হয়েছে, তাই এই চুক্তিকে ভিত্তি করে বেনজীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালতে এই প্রত্যর্পণ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পেতে পারেন, যা মোকাবিলা করতে দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসও সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
ট্যাগস:


