← Back
BREAKING
🔴 "ধামাকা অফার! আমাদের নিউজ পোর্টালে বিজ্ঞাপন বুকিংয়ে চলছে ৫০% পর্যন্ত ছাড়। আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রসারে আজই যোগাযোগ করুন।"🔴 ঢাকা-ওয়াশিংটন পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (ART): জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব বিশ্লেষণ🔴 Professional Contact & Connectivity Hub sayad Md Bayezid Hosan🔴 ব্রেকিং: শারীরিক অসুস্থতার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ🔴 খেলার শেষ মুহূর্তে আসিফের পেনাল্টি গোল: 'আলোকিত ১৫'-কে হারিয়ে 'ফ্যালকন ১৯'-এর নাটকীয় জয়🔴 ঈদ পরবর্তী ফুটবল উন্মাদনা: আজ মাঠে নামছে 'ফ্যালকন ১৯' বনাম 'আলোকিত ১৫'🔴 ‘আমি জনগণের দোসর’: লতিফ সিদ্দিকীর এই শাশ্বত সত্যকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে খোদ আওয়ামী লীগ🔴 উনসত্তরের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ

GenZ Frontier News Header

উনসত্তরের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ

প্রতিবেদক: সৈয়দ মো. বায়েজিদ হোসেন, টাঙ্গাইল | ০২ জুন ২০২৬

’৬৯-এর গণ-আন্দোলনের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে স্মৃতিচারণ করেছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর-উত্তম। পাঠকদের জন্য তাঁর সম্পূর্ণ বক্তব্যটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:


১৯৬৯-এর গণ-আন্দোলনের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ পরপারে চলে গেছেন। নায়ক বহু হয়, কিন্তু মহানায়ক খুব বেশি নয়।

তোফায়েল আহমেদকে সারা দেশের মানুষ ’৬৯-এর মহানায়ক হিসেবে চেনে। আমি তাঁকে সেভাবে চিনি না। ’৬২ সালে চট্টগ্রামে স্কাউট জাম্বুরি হয়েছিল, সেই জাম্বুরিতে তোফায়েল আহমেদ গিয়েছিলেন বরিশাল থেকে, আর লতিফ ভাই (লতিফ সিদ্দিকী) গিয়েছিলেন টাঙ্গাইল থেকে। তাঁদের চট্টগ্রামে পরিচয় হয়েছিল। এরপর তাঁদের শত শত চিঠি আদান-প্রদান হয়েছিল। হঠাৎ একদিন যখন জানলাম ’৬৯-এর গণ-আন্দোলনের তিনিই নেতা, তখন আনন্দে বুক ভরে গেছে। বাঙালির যত গুণ আছে, ছোটখাটো কিছু দোষও আছে। আমরা অতীতের অনেক কিছু ভুলে যেতে চাই, অস্বীকার করতে চাই।

'৬৯-এর গণ-আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু

’৬৯-এর গণ-আন্দোলনে যদি তোফায়েল আহমেদ না থাকতেন, যদি বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে না বের করে আনতে পারতাম, বঙ্গবন্ধু যদি ’৬৯-এ মুক্তি না পেতেন, আইয়ুব খানের বিদায় না হতো, তাহলে আজ বাংলাদেশ হতো না। পাকিস্তানের পর ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, তারপর ’৫৪ সালে নির্বাচন হয়েছিল এবং ’৬২-তে শিক্ষা কমিশন—এসব আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের ভিত। বিশেষ করে ’৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে আমরা বের করে এনেছিলাম। সেই আন্দোলনের নেতা ছিলেন মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ। আজ কোনো বিতর্কিত কথায় যেতে ইচ্ছা করছে না।

রক্ষীবাহিনী ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

তোফায়েল আহমেদের জানাজায় আমি যেতে চেয়েছিলাম, শুনছি আজ মাগরিবের পরে জানাজা হবে। এটা আরেকটা ব্যর্থতা, বেদনার। তোফায়েল আহমেদ রক্ষীবাহিনী দেখাশোনা করতেন, এটা পরে শুনেছি। বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার আগে কোনো দিনও শুনিনি যে রক্ষীবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ। পরে অনেকে অনেক ইনিয়ে-বিনিয়ে অনেক কথা বলেছেন।

আমাদের দেশে যাঁরা সফল হন, যাঁরা বড় ভূমিকা নেন, তাঁদের পক্ষে অজস্র মানুষ থাকে, বিপক্ষেও অনেক শক্তি থাকে। তোফায়েল আহমেদেরও তেমনি ছিল। নানাজন তাঁকে নাজেহাল করার চেষ্টা করেছিল। একটা কথা আমি শুনেছি, রক্ষীবাহিনী গিয়েছিল তাঁর হুকুম চাইতে। যুদ্ধে সব সময় হুকুম লাগে না। তোফায়েল আহমেদ হুকুম দিলেই রক্ষীবাহিনী একদম ঝাঁপিয়ে পড়ত? কি করেছিল রক্ষীবাহিনী? কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়েনি। আর রক্ষীবাহিনীর অস্ত্র নিজেদের ঘরে রাখা হয়নি। রাখা হয়েছিল পিলখানায়। অন্যের অস্ত্রাগারে অস্ত্র রেখে কোনো যোদ্ধা যুদ্ধ করতে পারেন না।

আমার কাছে মনে হয়েছে, বঙ্গবন্ধু তো শারীরিকভাবে নিহত হয়েছিলেন, তাঁর সহকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে হত্যা করার উদ্দেশ্যে শত্রুপক্ষ তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে এ রকম অভিযোগ এনেছিল। ’৭৫-এর ঘটনার প্রতিবাদের জন্য কারো তেমন অনুমতির প্রয়োজন হয়, এটা একটা বানানো কথা।

ব্যক্তিগত স্মৃতি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি

সারা বাংলাদেশে, পাকিস্তানে আলোড়ন সৃষ্টিকারী তোফায়েল আহমেদ ’৬৯-এর তোফায়েল আহমেদ। আর আমাদের কাছে ’৬২-এর তোফায়েল আহমেদ।

এখন কিছু হলেই মার্সিটিজে চড়েন, পাজেরোতে চড়েন। কিন্তু তখন পূর্ব পাকিস্তান তোফায়েল আহমেদের হাতের মুঠোয় ছিল, তখনো তাঁরা বাসে করে টাঙ্গাইলে এসে রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করেছেন। এখন যে যাই বলুন, বঙ্গবন্ধু তোফায়েলের মতো অত বড় দরের নেতা, অত বড় সংগঠক পেয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতা পর্যন্ত যেতে পেরেছিলেন এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর বন্ধু। কিন্তু আমার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাকে অনেক দূর নিয়ে যায়। অনেক কিছুর সাক্ষী আমি।

একটি ঘটনা আমি বলি—ভোলার একটা উপনির্বাচনে গিয়েছিলাম। সাত দিনের মতো ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। আমি প্রায় ১৬ দিন সেখানে ছিলাম। ইসহাক আলি পান্না নামের একটা অসাধারণ ছেলেকে আমি সেখানে পেয়েছিলাম। যে পরে ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিল। সেইখানে এই ১৫-১৬টা দিন তোফায়েল আহমেদকে অন্য মানুষ দেখেছি, কর্মীদের থাকা-খাওয়া, আমাদের খোঁজখবর নেওয়া—কোনোখানেই কোনো ক্লান্তি ছিল fixছিল না। তাঁর স্ত্রী ছিলেন মায়ের মতো। আর কিছু না হোক, খাওয়া দাওয়া প্রশ্নে অসাধারণ একজন মানুষ।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তোফায়েল আহমেদকে মাফ করে দিয়ে বেহেশত নসিব করেন। আসলে কষ্ট হয়, যাঁদের জাতীয় সম্মান পাওয়ার কথা ছিল, তা তাঁরা কেউ পাননি। তোফায়েল আহমেদও পাননি। সরকারিভাবে পাননি, দলীয়ভাবেও পাননি। আমির হোসেন আমু প্রায় ৯০ বছরের কাছাকাছি বয়স, তিনি আজ জেলখানায় পড়ে আছেন। এমএ জলিল একটা অসাধারণ মানুষ, কোনো সম্মান পাননি। আজ যাঁরাই আছেন, জাতির তাঁদেরকে সম্মান দেওয়া উচিত ছিল।

বীর মহাবীর জীবনে অনেকে একবার হন। কিন্তু তোফায়েল আহমেদ ’৬৯-এর যেমনি মহানায়ক, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও তেমনি মহানায়ক। মানুষের অনেক ব্যর্থতা থাকে, ভুল থাকে, ভ্রান্তি থাকে। তারপরও আমি মনে করি, তোফায়েল আহমেদ সমস্ত ভুলভ্রান্তির ঊর্ধ্বে সফল রাজনীতিবিদ।