
‘আমার কাছে ওঁরা স্রষ্টার সৃষ্টি মানুষ’: পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আনোয়ার হোসেন মোল্লা
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ জুন ২০২৬
বর্তমান যুগে রাজনীতি এবং ক্ষমতার শীর্ষে থাকা মানুষদের নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে যখন এক ধরণের দূরত্ব ও আভিজাত্যের ধারণা কাজ করে, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং হৃদয়গ্রাহী একটি চিত্র ভাইরাল হয়েছে। সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একজন মানুষের সাথে একই ফ্রেমে হাসিমুখে ছবি তুলে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসার ঝড় তুলেছেন একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি হলেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা।
ক্ষমতার মোহ বা পদমর্যাদার অহংকার যে একজন প্রকৃত জননেতাকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরাতে পারে না, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে আনোয়ার হোসেন মোল্লার সাম্প্রতিক একটি ফেসবুক পোস্ট। ঈদ পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাতের একটি সাধারণ মুহূর্তকে তিনি রূপ দিয়েছেন সাম্য, মানবিকতা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অসাধারণ বার্তায়।
ভাইরাল হওয়া সেই পোস্টে যা ছিল
সম্প্রতি মোঃ আনোয়ার হোসেন মোল্লা তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে দেখা যায়, অত্যন্ত সাধারণ এবং ছিমছাম পোশাকে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এবং তার পাশে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছেন তিনজন ব্যক্তি, যারা পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা সমাজের ভাষায় 'মেথর'। এই ছবির সাথে তিনি যে আবেগঘন এবং বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গির ক্যাপশনটি জুড়ে দিয়েছেন, তা মুহূর্তেই নেটিজেনদের হৃদয় জয় করে নেয়।

★ ঈদ পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছে আমার খুবই ভক্ত " মেথর " ময়লা পরিষ্কারক বা সুইপার। (পেশাগত অর্থ: যে ব্যক্তি ঝাড়ু দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে মলমূত্র ও আবর্জনা পরিষ্কার করার পেশার সাথে যুক্ত)। আলোচনা উঠে আসলে কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছি স্যার। অনেক দিন দেখি না স্যার। শুনেছি মাঠে নামাজ আদায় করেছেন। দেখা হয়ে ভালো লাগছে। ওঁরা মেথর সম্প্রদায়ের মানুষ, স্রষ্টা তাদেরকে ঐ সমাজে জন্ম দিয়েছেন। তা-ই সেই সমাজের কাজে মেথর কিন্তু আমার কাছে ওঁরা স্রষ্টা সৃষ্টি মানুষ। আমিও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে, একটি সেলফি তুললে ওঁরা ভীষণ খুশি। অনেক দিন পর দেখা। হে প্রভু তুমি তোমার সকল সৃষ্টি কে ভালো রাখিও।
অহংকারহীন এক জননেতার প্রতিচ্ছবি
আনোয়ার হোসেন মোল্লা একজন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। স্বাভাবিকভাবেই তিনি সমাজের একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। কিন্তু তার এই পোস্ট প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক পদবি বা ক্ষমতার চেয়ার তার ভেতরের সাধারণ মানুষটিকে বদলে দিতে পারেনি।
আমাদের সমাজে পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা হরিজন সম্প্রদায় চরম বৈষম্য ও অবহেলার শিকার। অনেকেই তাদের সাথে মিশতে বা একই কাতারে বসতে কুণ্ঠাবোধ করেন। সমাজের এই তথাকথিত 'উঁচু-নিচু' শ্রেণির ভেদাভেদ ভেঙে একজন প্রভাবশালী নেতার এভাবে তাদের আপন করে নেওয়া এবং তাদের সাথে সেলফি তুলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা—এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু কথায় নয়, বরং হৃদয়ের গভীর থেকে সাম্যবাদে বিশ্বাস করেন। তার কাছে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—সে স্রষ্টার সৃষ্টি একজন মানুষ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া
পোস্টটি ফেসবুকে শেয়ার হওয়ার পরপরই তা সাধারণ মানুষের নজরে আসে এবং দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, এই পোস্টের নিচে ইতিবাচক মন্তব্য করে আনোয়ার হোসেন মোল্লার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।
নেটিজেনরা বলছেন, "নেতা এমনই হওয়া উচিত, যার কাছে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ বিনা দ্বিধায় পৌঁছাতে পারে।" অনেকে আবার বর্তমান সময়ের অন্যান্য অহংকারী জনপ্রতিনিধিদের সাথে তার তুলনা করে বলেছেন, "ক্ষমতা পেলেই যেখানে অনেকেই সাধারণ মানুষকে ভুলে যান, সেখানে তিনি প্রমাণ করলেন মাটির মানুষ সবসময় মাটির কাছাকাছিই থাকতে ভালোবাসেন।"
Daily utility user tools SmartGen Utility Platform Professional, fast, and 100% free web utilities. From QR codes to SEO generators, everything you need in one place. Visit SmartGen Tools
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, "স্যার, আপনার এই মানবিকতা আমাদের মুগ্ধ করেছে। সমাজের এই পিছিয়ে পড়া মানুষদেরও যে সম্মান প্রাপ্য, তা আপনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন।"
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মানবিকতার জয়
আনোয়ার হোসেন মোল্লার এই সাধারণ একটি সেলফি এবং কয়েকটি বাক্য সমাজের গভীরে থাকা একটি বড় ব্যাধির দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেটি হলো—পেশাগত কারণে মানুষের প্রতি বৈষম্য। মেথর, সুইপার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখেন। তাদের ঘাম এবং শ্রমের বিনিময়ে আমরা একটি সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারি। অথচ সমাজ তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে কার্পণ্য করে।
এই পোস্টে আনোয়ার হোসেন মোল্লা অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সেই প্রথাগত ধারণায় আঘাত করেছেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, পেশাগত কারণে কেউ 'মেথর' হতে পারে, কিন্তু দিনশেষে সে স্রষ্টারই একজন সৃষ্টি। এই অমোঘ সত্যটি সমাজের প্রতিটি মানুষের উপলব্ধি করা প্রয়োজন। তিনি যখন এই অবহেলিত মানুষগুলোর সাথে হাসিমুখে সেলফি তুলেছেন এবং সেই সেলফিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মুখের যে অমলিন হাসি ফুটে উঠেছে—তা যেন সমাজের সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ এবং একই সাথে মানবিকতার এক বিশাল জয়।
নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ
আনোয়ার হোসেন মোল্লার এই আচরণ আজকের প্রজন্মের রাজনীতিবিদ এবং সমাজসেবকদের জন্য এক বিশাল শিক্ষণীয় বিষয়। রাজনীতি মানে যে কেবল ক্ষমতার চর্চা নয়, বরং মানুষের সেবা করা এবং সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান চোখে দেখা—এই সত্যটি তিনি তার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন।
একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়তে হলে সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতে হবে। আনোয়ার হোসেন মোল্লা তার এই পোস্টের মাধ্যমে সমাজের সেই অন্ধকার দিকগুলোতে আলো ফেলার চেষ্টা করেছেন। তার এই অহংকারহীন এবং নিরহংকার জীবনাচরণ প্রমাণ করে যে, প্রকৃত সম্মান পদবি থেকে আসে না, আসে মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং বিনয় থেকে।
পরিশেষে বলা যায়, নেতার এই মানবিক পোস্টটি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে একটি স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। তার এই অসাম্প্রদায়িক এবং বৈষম্যহীন দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা। "হে প্রভু তুমি তোমার সকল সৃষ্টিকে ভালো রাখিও"—তার এই প্রার্থনার সাথে আজ সুর মিলিয়েছে হাজারো মানুষ।



