সাহিত্যে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান ড. আশরাফ সিদ্দিকী
নিজস্ব প্রতিবেদক: GenZ Frontier
বাংলা সাহিত্য ও লোকঐতিহ্য গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান, প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও লোকগবেষক ড. আশরাফ সিদ্দিকী মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে দীর্ঘদিনের গবেষণা, সৃজনশীলতা ও অবদানের জন্য তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।
ড. আশরাফ সিদ্দিকী (১ মার্চ ১৯২৭ – ১৯ মার্চ ২০২০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি সাহিত্যিক, লোকগবেষক এবং বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক। বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এমন লেখকদের মধ্যে তিনি অন্যতম। জীবদ্দশায় তিনি পাঁচ শতাধিক কবিতা রচনা করেছেন এবং বাংলার লোকঐতিহ্য নিয়ে গভীর গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তিনি ছিলেন একাধারে প্রবন্ধকার, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, লোকসাহিত্য গবেষক এবং শিশু সাহিত্যিক।
সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।
read More স্বাধীনতার ইশতেহার ও শাজাহান সিরাজ
ড. আশরাফ সিদ্দিকী ১৯২৭ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি গ্রামে তার নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আব্দুস সাত্তার সিদ্দিকী ছিলেন একজন শৌখিন হোমিও চিকিৎসক এবং ইউনিয়ন পঞ্চায়েত ও ইউনিয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান। তার মা সমীরণ নেসা ছিলেন স্বভাবকবি।
তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় নানাবাড়ির পাঠশালায়। পরে তিনি বাবার প্রতিষ্ঠিত রতনগঞ্জ মাইনর স্কুলে দ্বিতীয় থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন তিনি প্রথম কবিতা ‘নববর্ষা’ রচনা করেন। পরবর্তীতে তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন।
সপ্তম শ্রেণিতে থাকাকালীন তার কবিতা ‘স্বগত’ ও ‘পূর্বাশা’ সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। একই সময় তিনি বাংলার আঞ্চলিক ধাঁধা সংগ্রহ করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে পাঠান, যা রবীন্দ্রনাথ প্রশংসা করেন।
পরে তিনি ভারতের শান্তিনিকেতনে পড়াশোনা করতে যান। তবে ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের সময় তিনি দেশে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৪৮ সালে টাঙ্গাইলের করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স সম্পন্ন করেন এবং মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
Read More - ১৯৭১ সালের টাঙ্গাইল রণাঙ্গনে বাতেন বাহিনীর সংগঠিত প্রতিরোধ
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি ১৯৫৮ সালে এমএ এবং ১৯৬৬ সালে লোকসাহিত্যে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
কর্মজীবনে তিনি ১৯৫০ সালে টাঙ্গাইলের কুমুদীনি কলেজে অধ্যাপনার মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরে তিনি রাজশাহী সরকারি কলেজ ও ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা করেন। এছাড়া তিনি ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজেও অধ্যাপনা করেন।
১৯৬৮ সালে তিনি তৎকালীন কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ারের প্রধান সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ছয় বছর সফলভাবে এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ১৯৮৩ সালে তিনি জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন এবং সেখান থেকেই কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
Read More - ঢাকা-ওয়াশিংটন গোপন চুক্তির ফাঁস
বাংলা সাহিত্য ও লোকসংস্কৃতি গবেষণায় তার অসামান্য অবদান আজও স্মরণীয়। মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার মাধ্যমে জাতি আবারও এই মহান সাহিত্যিকের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।
- Dr Ashraf Siddiqui
- Independence Award 2026
- Bangladeshi writer
- Bengali literature
- Bangla Academy
Follow
All rights Reserve © GenZ Frontier | Privacy policy | Contact | Disclimer

No comments:
Post a Comment