![]() |
আনোয়ার হোসেন মোল্লার হুঁশিয়ারি: ‘সবার খতিয়ান জানা আছে, সাধু সাবধান
কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ রাজনীতিক আনোয়ার হোসেন মোল্লা তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর চলমান আইনি হয়রানির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে, তাঁর ভাতিজাকে কোনো পূর্ববর্তী মামলা ছাড়াই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাকে তিনি ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘প্রতিহিংসামূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি স্থানীয় অতিউৎসাহী মহলের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ এপ্রিল, যখন কালিহাতী থানা পুলিশ জাকারিয়া হোসেন ওরফে লেলিন মোল্লাকে আটক করে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আটকের সময় লেলিনের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা ওয়ারেন্ট ছিল না। তবে ১৩ এপ্রিল তাঁকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি পুরাতন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিজের দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনোয়ার হোসেন মোল্লা আক্ষেপের সাথে জানান যে, তিনি বর্তমানে তাঁর বংশের অন্তত ১১ জন সদস্যসহ নিজেও একাধিক মামলার আসামি। তিনি দাবি করেন, তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি কখনোই কোনো প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার প্রশ্রয় দেননি। আনোয়ার হোসেন মোল্লা স্থানীয় রাজনীতিতে এক অনন্য সম্প্রীতির উদাহরণ টেনে বলেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত চারটি মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি ছিল। তবে তাঁর ব্যক্তিগত সুপারিশ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকে প্রতিপক্ষ দলের নেতারা সেই মামলা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। এই উদারতার জন্য তিনি প্রকাশ্যে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যা বর্তমান সংঘাতময় রাজনীতিতে একটি বিরল দৃষ্টান্ত। স্থানীয় অতিউৎসাহী মহলের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এই প্রবীণ নেতা তাঁদের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইসলাম ধর্মে মিথ্যা মামলা, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বা কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া ‘কবিরা গুনাহ’ বা মহাপাপ হিসেবে গণ্য। ক্ষমতার দাপটে অন্ধ হয়ে যারা এই পথে হাঁটছেন, তাঁদের জন্য তাঁর এই বার্তা ছিল একটি নৈতিক সতর্কবাণী। প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল আনোয়ার হোসেন মোল্লার দেওয়া ‘সাধু সাবধান’ হুঁশিয়ারি। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সকলকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ক্ষমতার পালাবদল ইতিহাসের এক ধ্রুব সত্য এবং কোনো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়। এলাকার মানুষের ‘নাড়িনক্ষত্র’ (সিএস, আরএস, বিএস খতিয়ান) তাঁর জানা আছে উল্লেখ করে তিনি সকলকে অতীত ইতিহাস ও শেকড় মনে রেখে চলার পরামর্শ দেন। জেনজি ফ্রন্টিয়ার-এর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আনোয়ার হোসেন মোল্লার এই আক্ষেপ কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক হয়রানি ও মিথ্যা মামলার সংস্কৃতির একটি করুণ চিত্র। একজন প্রবীণ নেতার এমন প্রকাশ্য অবস্থান প্রমাণ করে যে, তৃণমূল পর্যায়ে সুস্থ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।আনোয়ার হোসেন মোল্লা: রাজনৈতিক হয়রানির প্রতিবাদে সরব প্রবীণ নেতা, ক্ষমতার ‘ক্ষণস্থায়ী’ রূপ মনে করিয়ে দিলেন ‘সাধু সাবধান’ বার্তায়
বিনা মামলায় গ্রেপ্তার ও আইনি জটিলতার প্রেক্ষাপট
রাজনৈতিক শিষ্টাচার বনাম প্রতিহিংসার সংস্কৃতি
ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের ডাক
‘সাধু সাবধান’: ক্ষমতার ক্ষণস্থায়ীত্বের হুঁশিয়ারি
বিশ্লেষকের অভিমত

Comments
Post a Comment