![]() |
| ছবি সংগ্রহীত |
নিজস্ব প্রতিবেদক, GenZ Frontier | ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, সদ্য সমাপ্ত গণভোটে দেশের জনগণের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। ভোটারদের ৬০ শতাংশের বেশি এই গণভোটে অংশ নিয়েছেন, যা গত সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এক শতাংশ বেশি।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আজ শুক্রবার গণভোটের ফলাফল ঘোষণা এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা
ড. আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদে যে সকল অঙ্গীকার ও সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই ঐতিহাসিক দলিলটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার মূল দায়িত্ব এখন রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরই বর্তায়। এ সময় তিনি দেশের সাধারণ নাগরিক এবং সুশীল সমাজকেও (সিভিল সোসাইটি) এই সনদ বাস্তবায়নে অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা পালন করার ও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
ভোটের হারের ব্যবধান নিয়ে ব্যাখ্যা
জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে গণভোটে ভোটার উপস্থিতি কেন বেশি হলো—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আলী রীয়াজ বলেন, এটি মোটেও অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। অনেক নাগরিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট না দিলেও গণভোটের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব বিবেচনায় এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া তিনি যুক্তি দেন যে, দেশের কয়েকটি আসনের সংসদ নির্বাচনের ফলাফল এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় সামগ্রিক হারে কিছুটা প্রভাব পরিলক্ষিত হতে পারে।
উচ্চকক্ষ গঠন ও আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা
সংসদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমতের কথা সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। ড. আলী রীয়াজ জানান, বিএনপি বর্তমানে তাদের সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন দাবি করছে। তবে জুলাই সনদে উল্লেখ রয়েছে যে, উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন হবে দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের শতাংশের ভিত্তিতে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই বিষয়ে একটি ঐক্যমতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
বাস্তবায়নের সময়সীমা ও দায়বদ্ধতা
ড. আলী রীয়াজ আরও জোর দিয়ে বলেন যে, গণভোটের মাধ্যমে জনগনের যে রায় প্রকাশিত হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা বিজয়ী দলগুলোর জন্য কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি নৈতিক দায়বদ্ধতাও বটে। তিনি ঘোষণা করেন যে, জুলাই সনদে বর্ণিত উচ্চকক্ষ গঠনের প্রক্রিয়াটি আগামী ৬ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে।

No comments:
Post a Comment