GenZ Frontier: তারুণ্যের শক্তি এবং সত্যের সন্ধানে আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

LATEST: [Skill] গ্রাফিক ডিজাইন: Gen Z এর জন্য High-Income Skill | [AI] এআই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং: বিগিনার টু প্রো গাইড | [Career] ডাটা অ্যানালাইসিস: পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন | [News] জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ | [Breaking] ঢাকা-ওয়াশিংটন গোপন চুক্তির ফাঁস | [Skill] ডিজিটাল মার্কেটিং: বিগিনার টু এক্সপার্ট রোডম্যাপ | [Skill] ভিডিও এডিটিং: ২০২৬ এর ক্যারিয়ার গাইড | [ইতিহাস] ক্র্যাক প্লাটুন: শাফী ইমাম রুমীর গেরিলা যুদ্ধ | [ইতিহাস] জেড আই খান পান্না: রণাঙ্গন থেকে মানবাধিকার | [১৯৭১] টাঙ্গাইলে বাতেন বাহিনীর সংগঠিত প্রতিরোধ | [ইতিহাস] টাঙ্গাইল রণাঙ্গনে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী | [বিজয়] টাঙ্গাইল মুক্তিযুদ্ধ: কাদের সিদ্দিকীর রণকৌশল | [Bonus] ৩ডি অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স ও GTA 5 মডিং গাইড

GenZ Career Guide

ঘরে বসে অনলাইন ইনকাম: ২০২৬ সালের সেরা ৫টি ডিজিটাল স্কিল গাইড

২০২৬ সালে ক্যারিয়ার গড়ার সেরা ৫টি হাই-ইনকাম স্কিল এবং পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ। ২০২৬ সালে সফল হওয়ার মাস্টার রোডম্যাপ: সেরা ৬টি হাই-ইনকাম ডিজিটাল ...

Saturday, 14 February 2026

ঢাকার ২০ আসনে ভোটের ফল: বিএনপির আধিপত্য নাকি জামায়াতের চমক?

 

ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনে ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রধান প্রার্থীদের ছবির একটি গ্রিড বা কোলাজ।

ঢাকার ২০টি আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়ী প্রার্থীদের মুহূর্ত। যেখানে একদিকে রয়েছে বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্যের প্রতিফলন, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর চমকপ্রদ উত্থান। এক নজরে দেখে নিন ঢাকার আগামীর প্রতিনিধিদের।



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ঢাকার রাজনৈতিক মানচিত্রের রূপান্তর: একটি বিশদ বিশ্লেষণ

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশটির ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনের অবসানের পর, এটিই ছিল প্রথম সাধারণ নির্বাচন যা একটি নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় । বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার ২০টি সংসদীয় আসনের ফলাফল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করেছে, তবে পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের ঐতিহাসিক উত্থানও প্রত্যক্ষ করা গেছে ।  

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে নিবন্ধিত ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট প্রদান করেছেন, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা-পরবর্তী একটি দেশে গণতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের গভীর আস্থার প্রতিফলন । ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৩টি আসনে এবং ১১-দলীয় জোট ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে । এই প্রতিবেদনটি ঢাকার এই ২০টি আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচয়, তাদের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা এবং নির্বাচনের অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক সমীকরণগুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করবে।  

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং জুলাই বিপ্লবের প্রভাব

২০২৬ সালের নির্বাচনটি কেবল একটি ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ছিল না, বরং এটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের অংশ। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ মানুষের আত্মত্যাগের পর যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা । এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছিল, ফলে মূল প্রতিযোগিতাটি সীমাবদ্ধ ছিল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে ।  

নির্বাচনের দিনটি ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দলের কাছে "বিশ্বাসযোগ্য এবং দক্ষতার সাথে পরিচালিত" হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে । পাশাপাশি একই দিনে অনুষ্ঠিত 'জুলাই সনদ' বা ৮৪ দফার রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোট জনসাধারণের বিপুল সমর্থনে পাস হয়েছে, যা বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করেছে ।  

ঢাকার ২০টি নির্বাচনী এলাকার ফলাফল চিত্র

ঢাকার নির্বাচনী আসনগুলো সর্বদা বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। রাজধানীর এই ২০টি আসনে জয়ী হওয়া যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক বিজয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকার সংসদীয় আসনগুলোর বিবরণ নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:

সারণি ১: ঢাকার ২০টি আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তালিকা


ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ): খন্দকার আবু আশফাক

ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ-সাভার): মো. আমানুল্লাহ আমান

ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ): গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-ডেমরা): সৈয়দ জয়নুল আবদীন

ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা): মোহাম্মদ কামাল হোসেন

ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি): ইশরাক হোসেন

ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার): হামিদুল রহমান হামিদ

ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল): মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ

ঢাকা-৯ (খিলগাঁও-সবুজবাগ): হাবিবুর রশীদ হাবিব

ঢাকা-১০ (ধানমণ্ডি-কলাবাগান): শেখ রবিউল আলম

ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা): নাহিদ ইসলাম

ঢাকা-১২ (তেজগাঁও-রমনা): নাহিদা সারোয়ার নিভা

ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর): ববি হাজ্জাজ

ঢাকা-১৪ (মিরপুর-শাহ আলী): মীর আহমদ বিন কাসেম

ঢাকা-১৫ (কাফরুল-মিরপুর): ডা. শফিকুর রহমান

ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর): আবদুল বাতেন

ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী): তারেক রহমান

ঢাকা-১৮ (উত্তরা-খিলক্ষেত): এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন

ঢাকা-১৯ (সাভার উপজেলা): দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন

ঢাকা-২০ (ধামরাই উপজেলা): মো. তমিজ উদ্দিন


ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেনের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যাটি মূলত ২০২০ সালের ডিএসসিসি নির্বাচনের প্রকৃত রায় হিসেবে ২০২৫ সালের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত হয়েছে । সামগ্রিকভাবে এই আসনটি বিএনপির জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।  

বিজয়ী সদস্যদের বিশদ বিশ্লেষণ ও নির্বাচনী সমীকরণ

ঢাকার ২০টি আসনের এই ফলাফল কেবল সংখ্যার খেলা নয়, বরং প্রতিটি আসনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা। নিচে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো।

বিএনপি'র আধিপত্য: ঢাকা ১, ২, ৩, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১৩, ১৭, ১৮, ১৯, ২০

বিএনপি এই ১৩টি আসনে জয়লাভ করে প্রমাণ করেছে যে, দেশের বৃহত্তম এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের সাংগঠনিক শক্তি এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আসন থেকে বিজয় বিএনপির জন্য এক বিশাল প্রতীকী জয় । ১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফিরে তিনি যে বিশাল জনসভাগুলো করেছিলেন, তা ভোটারদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে । ঢাকা-১৭ আসনে তিনি ৭২,৬৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালেদুজ্জামান পান ৬৮,৩০০ ভোট । এই ৪,৩৯৯ ভোটের ব্যবধান নির্দেশ করে যে, রাজধানীর অভিজাত এলাকায় জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।  

ঢাকা-৩ আসনে প্রবীণ নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিজয় ছিল বিএনপির জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। তিনি ৯৯,১৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যা নির্দেশ করে যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিএনপির ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের ওপর আস্থা রেখেছে । একইভাবে ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের বিজয় এবং ঢাকা-৬ আসনে ইশরাক হোসেনের জয় নির্দেশ করে যে, পুরান ঢাকায় বিএনপির পারিবারিক এবং রাজনৈতিক ঐতিহ্য এখনো অটুট ।  

ঢাকা-১৩ আসনে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই প্রত্যক্ষ করা গেছে। এখানে বিএনপি সমর্থিত এনডিএম নেতা ববি হাজ্জাজ ৯০,৬০১ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক পান ৮৬,৮৮৯ ভোট । এই আসনে মাত্র ৩,৭১২ ভোটের ব্যবধান নির্দেশ করে যে ধর্মীয় আবেদন এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে ।  

ঢাকা-১৮, ১৯ এবং ২০ আসনে বিএনপির বিজয় মূলত শিল্পাঞ্চল এবং রাজধানীর প্রবেশপথগুলোর ওপর দলটির নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং দেওয়ান মো. সালাউদ্দিনের মতো মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয় নেতারা এখানে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল সমর্থন পেয়েছেন ।  

১১-দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীর উত্থান: ঢাকা ৪, ৫, ১১, ১২, ১৪, ১৫, ১৬

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট ঢাকার ৭টি আসনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে । বিশেষ করে ঢাকা-১৪ এবং ঢাকা-১৫ আসনে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিজয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বিস্মিত করেছে। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন, যা তার দলের জন্য সবচেয়ে বড় সংসদীয় অর্জন হিসেবে বিবেচিত ।  

ঢাকা-১৪ আসনে মীর আহমদ বিন কাসেম ১,০১,১১৩ ভোট পেয়ে এক চমকপ্রদ জয় ছিনিয়ে আনেন । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম পান ৮৩,৩২৩ ভোট। মীর আহমদ বিন কাসেমের এই জয়টি ছিল মূলত "Generation Z" বা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সমর্থন এবং জামায়াতের ক্যাডারভিত্তিক সুশৃঙ্খল প্রচারণার ফল ।  

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাহিদ ইসলামের বিজয় । জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল কারিগর হিসেবে পরিচিত নাহিদ ইসলাম ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে সংসদ নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি স্লোগান দিয়েছিলেন, "৫ আগস্টের বিপ্লবকে রক্ষা করতে হলে আমাদের ভোট দিন" । তার বিজয় নির্দেশ করে যে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এখন ছাত্রদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে । ঢাকা-১২ আসনেও এনসিপি প্রার্থী নাহিদা সারোয়ার নিভার জয় একই রাজনৈতিক ধারার প্রতিফলন ।  

'জুলাই সনদ' ও গণভোটের রায়: সংসদীয় সংস্কারের নতুন দিগন্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে সাথেই বাংলাদেশের মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে। এই গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করেন এবং বিশাল ব্যবধানে 'হ্যাঁ' জয়ী হয় । এই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাত্র দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারণ এবং একটি দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন ছিল অন্যতম ।  

সারণি ২: জুলাই সনদের ওপর গণভোটের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান


জুলাই সনদের ওপর গণভোটের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান


এই গণভোটের ফলে নবনির্বাচিত ঢাকার ২০ জন সংসদ সদস্য এমন এক সংসদে বসতে যাচ্ছেন যেখানে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা অনেক বেশি সংকুচিত এবং জবাবদিহিতা অনেক বেশি নিশ্চিত করা হয়েছে । এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন "চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স" ব্যবস্থার সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।  

আর্থ-সামাজিক ও আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত

ঢাকার এই ২০টি আসনের ফলাফল কেবল স্থানীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর আন্তর্জাতিক গুরুত্বও অপরিসীম। বিশেষ করে তারেক রহমানের বিজয় এবং বিএনপির ক্ষমতায় ফিরে আসা প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ইতোমধ্যেই তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন । তবে বিএনপি ইতোমধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের কূটনীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে ।  

অর্থনৈতিকভাবে, ঢাকা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের একটি বিশাল কেন্দ্র। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতার হস্তান্তর বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে । বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গার্মেন্টস শিল্পের সুরক্ষা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ।  

নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল বরাবরের মতোই উদ্বেগের বিষয়। যদিও সংরক্ষিত ৫০টি আসনের ব্যবস্থা বহাল আছে, তবে সরাসরি নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনে মাত্র একজন নারী সংসদ সদস্য (ঢাকা-১২ এর নাহিদা সারোয়ার নিভা) নির্বাচিত হয়েছেন । জাতীয়ভাবেও সরাসরি ভোটে নারীদের বিজয় গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে । এটি নির্দেশ করে যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে ভবিষ্যতে নারী নেতৃত্ব বিকাশে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।  

উপসংহার: একটি নতুন গণতান্ত্রিক সফরের সূচনা

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ঢাকার ২০টি আসনে বিএনপি এবং ১১-দলীয় জোটের যে ভারসাম্যপূর্ণ বিজয় অর্জিত হয়েছে, তা মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার সুফল। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা ।  

সারা দেশের মতো ঢাকার ভোটাররাও প্রমাণ করেছেন যে তারা কেবল পরিচিত মুখ নয়, বরং গুণগত পরিবর্তন চান। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এখন একটি বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, আর জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি একটি শক্তিশালী বিরোধী দল বা জোটসঙ্গী হিসেবে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে । এই নতুন সংসদীয় ভারসাম্য বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করবে।  

ঢাকার নবনির্বাচিত সকল সংসদ সদস্যের প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন। আপনাদের আগামীর যাত্রা হোক জনকল্যাণমুখী এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক নজিরবিহীন উদাহরণ। জনমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণই হবে আপনাদের মূল লক্ষ্য ।  

(দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের নির্বাচনী তথ্য এবং গবেষণা উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত। প্রতিটি সংসদীয় আসনের তথ্য এবং ভোট সংখ্যা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত ফলাফলের আলোকে যাচাইকৃত। ) 


আরও পড়ুন - সংসদ নির্বাচনের চেয়ে গণভোটে ভোটার উপস্থিতি বেশি: ড. আলী রীয়াজ


তারেক রহমান যেহানে কইবো, হেইহানেই কাম করুম: সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু


তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টা ফোন


বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানা একাই জয়ী







No comments:

Post a Comment