শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য: বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা
GenZ Frontier Legacy Archive | Sayad Md Bayezid Hosan | ১৯ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু দিন রয়েছে, যেগুলো কেবল একটি তারিখ নয়; বরং একটি জাতির রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তনের প্রতীক। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তেমনই একটি দিন। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা ছিল না; এটি ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন বাস্তবতার সূচনা।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের পাশাপাশি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের মৌলিক দর্শন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়। সেই সংকটময় সময়েই বিদেশে অবস্থান করছিলেন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। ফলে তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেলেও হারান তাঁদের প্রায় পুরো পরিবার।
পরবর্তী কয়েক বছর শেখ হাসিনার জীবন কেটেছে নির্বাসনে। ব্যক্তিগত শোক, অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি কেবল একজন শোকাহত কন্যা ছিলেন না; বরং ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠতে শুরু করেন।
১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করে, যদিও তিনি তখনও বিদেশে অবস্থান করছিলেন। সেই সিদ্ধান্ত ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। কারণ একজন অনুপস্থিত নেত্রীকে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ দায়িত্ব অর্পণ করে আওয়ামী লীগ মূলত বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শকে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে পুনর্গঠনের পথ বেছে নেয়।
এর প্রায় তিন মাস পর, ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান শেষে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সেদিন ঢাকার কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে হাজার হাজার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থক তাঁকে স্বাগত জানান। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি সে সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছিল। এটি ছিল শুধু একজন নেত্রীকে বরণ করার আয়োজন নয়; বরং আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের প্রত্যাশা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনার প্রতীকী প্রকাশ।
নিজের স্মৃতিচারণায় শেখ হাসিনা লিখেছেন, দেশে ফিরে মানুষের বিপুল ভালোবাসা পেলেও তাঁর দৃষ্টি বারবার পরিবারের সেই পরিচিত মুখগুলোকেই খুঁজছিল, যাদের আর কখনো ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়নি। ব্যক্তিগত শোকের সেই গভীর অনুভূতির মধ্যেও তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন। এই আত্মপ্রত্যয় পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম ভিত্তি হয়ে ওঠে।
ইতিহাস বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ মে ১৯৮১ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের দিন। কারণ এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে নতুন নেতৃত্ব পায় এবং পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে দলটির পুনরুত্থানের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন প্রজন্মের সামনে একটি সুস্পষ্ট নেতৃত্বও প্রতিষ্ঠিত হয়।
তবে এই দিনটির মূল্যায়ন করতে হলে এটিকে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ইতিহাস হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা প্রয়োজন। স্বাধীনতার পরবর্তী অস্থির সময়, সামরিক শাসনের বাস্তবতা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতির পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত একটি ঘটনা হিসেবে স্থান করে
শেখ হাসিনার শৈশব, টুঙ্গিপাড়ার জীবন, ১৫ আগস্ট-পরবর্তী নির্বাসন, তাঁর আত্মজীবনীতে উঠে আসা অনুভূতি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে থাকবে বিস্তারিত

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: এক শূন্যতা থেকে নতুন রাজনৈতিক অভিযাত্রা
১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা ছিল না; এটি ছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া একটি রাজনৈতিক ধারার পুনরায় জনসমক্ষে ফিরে আসার মুহূর্ত। দীর্ঘ ছয় বছর নির্বাসিত জীবন শেষে তিনি যখন ঢাকার মাটিতে পা রাখেন, তখন বাংলাদেশ সামরিক শাসনের অধীনে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিষিদ্ধ, আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলাও ছিল কঠিন বাস্তবতা। এমন এক সময়েই আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভানেত্রী হিসেবে তাঁর প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করে।
দেশে ফিরে শেখ হাসিনা এমন একটি বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যেখানে ব্যক্তিগত জীবনের সব আশ্রয় প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে তিনি হারিয়েছেন তাঁর বাবা-মা, ভাই এবং পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে। নির্বাসন থেকে ফিরে বিমানবন্দরে লাখো মানুষের ভালোবাসা পেলেও নিজের পরিবারের কোনো সদস্যকে আর খুঁজে পাননি। পরবর্তীকালে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন, মানুষের ভালোবাসা তাঁকে শক্তি দিলেও তাঁর চোখ বারবার পরিবারের সেই পরিচিত মুখগুলো খুঁজে ফিরেছিল, কিন্তু কাউকে আর পাওয়া যায়নি। এই ব্যক্তিগত শোকই ধীরে ধীরে তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ববোধকে আরও গভীর করে তোলে।
বাংলাদেশে ফিরে তিনি এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেন, যেখানে রাষ্ট্রক্ষমতা ছিল সামরিক সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার নানা প্রচেষ্টা চলছিল। সেই সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তিও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অনেক নেতা-কর্মী রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলেন, আবার অনেকে দীর্ঘদিন কারাবরণ বা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল দলকে পুনর্গঠন করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে জনমতকে আবার সংগঠিত করা।
এই সময় থেকেই তিনি নিজেকে কেবল একজন দলীয় সভাপতি হিসেবে নয়, বরং একজন সাংগঠনিক কর্মী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেন। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত সফর করে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেন। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিকে তিনি নিয়মিত জনসভা, কর্মীসভা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরতে থাকেন। পাকিস্তানি ভাবধারার পুনরুত্থান কিংবা বঙ্গবন্ধুর শাসনামল সম্পর্কে যে নেতিবাচক প্রচারণা তখন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তার রাজনৈতিক জবাব দেওয়াও তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্বে পরিণত হয়।
তবে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে। ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে অধ্যয়নকালে ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে কলেজ ইউনিয়নের সহসভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই তাঁর নেতৃত্বের প্রথম প্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল সক্রিয় এবং ধারাবাহিক।
১৯৬৭ সালের ১৭ নভেম্বর বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তাঁর বিবাহিত জীবন শুরু হলেও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে তিনি কখনো দূরে সরে যাননি। পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি রাজনীতি তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ড, নির্বাসন এবং দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়েও সেই রাজনৈতিক অঙ্গীকার অব্যাহত থাকে।
বাংলাদেশে ফেরার মাত্র কয়েকদিন আগে, ১৯৮১ সালের ৫ মে আন্তর্জাতিক সাময়িকী Newsweek-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, দেশে ফিরলে তাঁর জীবনের ঝুঁকি রয়েছে—এ বিষয়টি তিনি জানতেন। তবুও তিনি ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করার জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তার চেয়ে জাতীয় দায়িত্ব অনেক বড়।
এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায় পরবর্তী বছরগুলোতেও। ১৯৮৩ সালের ২৪ মার্চ সামরিক শাসন জারির মাত্র দুই দিন পর স্বাধীনতা দিবসে তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন যে, তিনি সামরিক শাসন মানেন না এবং বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। সেই ঘোষণাই পরবর্তী দশকের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম রাজনৈতিক ভিত্তি হয়ে ওঠে।
কবি নির্মলেন্দু গুণ শেখ হাসিনার এই দীর্ঘ সংগ্রামকে স্মরণ করে লিখেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়িতে পা রাখার মুহূর্ত থেকেই তিনি বুঝেছিলেন সামনে অপেক্ষা করছে দুর্গম পথ, অসংখ্য বাধা এবং অবিরাম প্রতিকূলতা। সেই পথ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু তিনি সেখান থেকে সরে দাঁড়াননি। ব্যক্তিগত শোককে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় রূপান্তর করে তিনি যে যাত্রা শুরু করেছিলেন, সেটিই পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়।

প্রত্যাবর্তনের দিন বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতা
১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর যে রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল, সেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান—সবকিছুই কার্যত রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক পরিসরে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। ছয় বছরের সেই সময়জুড়ে সামরিক শাসনের অধীনে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমূল বদলে যায়। এমন এক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা শুধু আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন ছিল না; এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার সূচনাও।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আগেই আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সে সময় তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করলেও দলের নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেছিলেন যে, কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে তাঁর নেতৃত্বই সবচেয়ে প্রয়োজন। দেশে ফেরার দিন ঢাকার বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন পর রাজপথে আবারও উচ্চারিত হতে থাকে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান। বহু মানুষের কাছে এটি ছিল কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে নিজেদের বিশ্বাস ও ইতিহাসকে প্রকাশ্যে উচ্চারণ করার একটি মুহূর্ত।
সেদিন সমবেত মানুষের কণ্ঠে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে নানা স্লোগান ধ্বনিত হয়েছিল। রাজনৈতিক সমাবেশের আবেগ, প্রত্যাশা এবং ক্ষোভ—সবকিছুই সেই দিনের পরিবেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পুনরুদ্ধারের দাবিও জনতার কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকে। এই গণসমাগম সেই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ধারার প্রতি জনগণের আগ্রহ ও সমর্থন এখনও শক্তিশালীভাবে বিদ্যমান।
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নতুন গতি পায়। দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা নেতাকর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হতে শুরু করেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পায় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনের নতুন প্রস্তুতি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নটি আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অঙ্গীকারে পরিণত হয়। বহু বছর পর বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েকজন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, যদিও কিছু দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন বিদেশে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।
শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবনও এই রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিল। তিনি দেশে ফিরেছিলেন এমন একজন মানুষ হিসেবে, যিনি পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হারিয়েছেন এবং নিজের শৈশবের ঘরেও আর ফিরে যেতে পারেননি। তবু ব্যক্তিগত শোককে রাজনৈতিক দায়িত্বের কাছে গৌণ করে তিনি জনগণের মধ্যেই নিজের নতুন পরিবার খুঁজে নেন। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক জনসভায় আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন যে, লাখো মানুষের ভিড়ের মধ্যেও তিনি তাঁর বাবা, মা, ভাই এবং ছোট ভাই শেখ রাসেলকে খুঁজে ফিরছিলেন, কিন্তু তাঁদের আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। এরপর তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, আজ দেশের মানুষই তাঁর আপনজন এবং তিনি আওয়ামী লীগের নেত্রী হিসেবে নয়, বরং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী একজন কর্মী, একজন বোন ও একজন কন্যা হিসেবে মানুষের পাশে থাকতে চান।
এই বক্তব্য রাজনৈতিক ভাষণের চেয়ে অনেক বেশি মানবিক আবেদন বহন করেছিল। ব্যক্তিগত শোক, জাতীয় ট্র্যাজেডি এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার—এই তিনটি বিষয় একই সূত্রে গেঁথে যায় তাঁর সেই ভাষণে। পরবর্তী চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনার ভূমিকা, তাঁর সমর্থক ও সমালোচকদের ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে আলোচিত হয়েছে। তবে ইতিহাসের বিচারে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
কারাবরণ, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবন শুধু নির্বাচনী রাজনীতি বা ক্ষমতার ইতিহাস নয়; এর বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন, কারাবরণ, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতা। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন। এর ফলে তাঁকে বারবার গ্রেপ্তার, গৃহবন্দি এবং রাজনৈতিক হয়রানির মুখে পড়তে হয়। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দশকে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। এসব সময় তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকলেও দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মানসিক বন্ধন অটুট রাখার চেষ্টা করেন।
নিজের স্মৃতিচারণে শেখ হাসিনা লিখেছেন, দেশের জন্য আত্মত্যাগের শিক্ষা তিনি পারিবারিকভাবেই অর্জন করেছিলেন। নির্বাসনে কাটানো সময়েও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে তিনি নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবমূল্যায়ন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার ঘটনাগুলো তিনি দূর থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষের ভাগ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগই তাঁকে রাজনৈতিক সংগ্রাম থেকে কখনও দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি।
আশির দশকের বাংলাদেশ ছিল সামরিক শাসনের অধীনে একটি অস্থির রাজনৈতিক পর্ব। সে সময় রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, বহু রাজনৈতিক নেতাকে বিশেষ আইনে আটক রাখা হয় এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়ে। একই সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা ও সদস্যের বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আলোচিত হয়ে আছে। এই সামগ্রিক বাস্তবতার মধ্যেই আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন শেখ হাসিনা।

২০০৭ সালের দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তন: নতুন রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঘোষিত জরুরি অবস্থার সময় বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সে সময় সামরিক-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে নানা রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ২০০৭ সালের ৭ মে দেশে ফিরে আসেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনও সমর্থকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে দেশে ফেরার মাত্র কয়েক মাস পর, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তাঁকে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় ৩৩১ দিন তিনি কারাগারে ছিলেন। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে তাঁর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। আদালতে হাজিরা, আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি মুক্তি লাভ করেন এবং পুনরায় সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।
এই সময়কার রাজনৈতিক ঘটনাবলি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিকাশ, বিচারব্যবস্থা, দলীয় রাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার জন্ম দেয়। একদিকে সমর্থকদের কাছে শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হন, অন্যদিকে সমালোচকেরা সেই সময়কার ঘটনাগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করেন। ফলে ২০০৭-০৮ সালের এই অধ্যায় বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় হয়ে রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাময়িকীতেও আলোচনায় আসে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন নীতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একাধিক বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাঁর সরকারের পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্য নীতির মূল্যায়ন করেছে। এসব মূল্যায়ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করে।

উপসংহার: স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের উত্তরাধিকার ও ইতিহাসের মূল্যায়ন
১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করে। পরবর্তী চার দশকে তিনি বহু রাজনৈতিক সংকট, আন্দোলন, কারাবরণ, নির্বাচন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার নিরাপত্তা হুমকি ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনাও বিভিন্ন সময় আলোচিত হয়েছে। এসব ঘটনার পরও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থেকে দলীয় নেতৃত্ব অব্যাহত রাখেন এবং সমর্থকদের মতে, সংকটের মধ্যেও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়াননি।
বাংলাদেশের সমসাময়িক ইতিহাসে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে অনেক গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে মূল্যায়ন করেন। আবার তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে ভিন্নমত ও সমালোচনাও রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক আলোচনার অংশ। ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন তাই বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, তথ্য ও গবেষণার সমন্বয়েই সম্পন্ন হয়।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এই বার্ষিকী কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মরণ নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এমন একটি অধ্যায়, যা স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানার সুযোগ করে দেয়। ১৯৮১ সালের সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহ বুঝতে হলে শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং সে সময়কার বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, সামরিক শাসনের প্রেক্ষাপট এবং জনগণের প্রত্যাশাকেও সমানভাবে বিবেচনায় নিতে হয়।
আজ, চার দশকেরও বেশি সময় পরে ফিরে তাকালে ১৭ মে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে আলোচিত হয়। এই দিনটি গবেষক, ইতিহাসবিদ, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ইতিহাসের নানা ব্যাখ্যা ও মূল্যায়নের মধ্যেও একটি বিষয় স্পষ্ট—স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রেখে গেছে এবং সে কারণেই এটি এখনও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
Read More: ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা: ২০২৬ সালে দেশে ফেরার বার্তা
Related Article: ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হলেও আত্মসমর্পণের ঘোষণা Also Read: দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা ঘিরে নতুন আলোচনা Further Reading: ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনায় শেখ হাসিনা, কী হতে পারে পরবর্তী পরিস্থিতি?
Tag: - শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন - ১৭ মে ১৯৮১ - Sheikh Hasina Homecoming - শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন - বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস - বঙ্গবন্ধু পরিবার - আওয়ামী লীগের ইতিহাস - বাংলাদেশের গণতন্ত্র - শেখ হাসিনা জীবনী - GenZ Frontier Legacy Archive
### Author
লেখক: Sayad Md Bayezid Hosan
ডেস্ক: GenZ Frontier | Legacy Archive
প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুলাই ২০২৬